বহুল পুণ্যেতে        অনন্ত শূন্যেতে
দেখিল রমণী, জ্বলিছে আলো।
হাসিছে রূপসী        নবীনা ষোড়শী
মৃগেন্দ্র বাহনে, মূরতি কালো ||
নরমুণ্ডমালা          দুলিছে উরসে
বিজলি ঝলসে লোচন তিনে।
দেখা দিয়া মাতা     দিতেছে অভয়
দেবতা সহায় সহায়হীনে ||
আকাশের পটে      নগেন্দ্র-নন্দিনী
দেখিয়া যুবতী প্রফুল্ল মুখ।
হৃদি সরোবর        পুলকে উছলে
সাহসে ভরিল, নারীর বুক ||
তুলিয়া মস্তক        গ্রীবা হেলাইল
দাঁড়াইল ধনী ভীষণ রাগে।
নয়নে অনল        অধরেতে ঘৃণা
বলিতে লাগিল নৃপের আগে ||
ছিছি ছিছি ছিছি       তুমি হে সম্রাট্,
এই কি তোমার রাজধরম।
কুলবধূ ছলে        গৃহেতে আনিয়া
বলে ধর তারে নাহি শরম ||
বহু রাজ্য তুমি     বলেতে লুটিলে,
বহু বীর নাশি বলাও বীর।
বীরপণা আজি     দেখাতে এসেছ
রমণীর চক্ষে বহায়ে নীর?
পরবাহুবলে        পররাজ্য হর,
পরনারী হর করিয়ে চুরি।
আজি নারী হাতে      হারাবে জীবন
ঘুচাইব যশ মারিয়ে ছুরি ||
জয়মল্ল বীরে      ছলেতে বধিলে
ছলেতে লুটিয়ে চারু চিতোর।
নারীপদাঘাতে     আজি ঘুচাইব
তব বীরপণা, ধরম চোর।
এত বলি বামা    হাত ছাড়াইল
বলিতে ধরিল রাজার অসি।
কাড়িয়া লইয়া,    অসি ঘুরাইয়া,
মারিতে তুলিল, নবরূপসী ||
ধন্য ধন্য বলি      রাজা বাখানিল
এমন কখন দেখিনে নারী।
মানিতেছি ঘাট    ধন্য সতী তুমি
রাখ তরবারি ; মানিনু হারি ||